Enhancing Trader Performance Book Review and summary

আপনি জানেন যে শুধু চার্ট দেখলে বা এনালাইসিস করলে শক্তিশালী পাওয়ারফুল ট্রেডের হবে যায়না |ডঃ ব্রেট স্টেইনবারজার একজন ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট, ট্রেডিং কোচ এবং বিশ্বমানের পারফরম্যান্স এক্সপার্ট  এবং পসিকোলোজিক্যাল অনেক প্রবলেম সলভ করেছেন । তিনি হাজার হাজার পেশাদার ট্রেডারকে মানসিক সুবিধা পেতে সাহায্য করেছেন। তাঁর বই, এনহ্যান্সিং ট্রেডার পারফরম্যান্স একটি গাইড নয়, বরং একটি ট্রেডিং মনের কর্মশালা। এই বইটি দেখায় যে কীভাবে আপনি আপনার আবেগ নিয়ন্ত্রণ রাগ ক্রোধ লোভ এবং ফোম নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, কীভাবে আপনার পারফরম্যান্স পরিমাপ ও উন্নত করতে পারেন, এবং সর্বোপরি কীভাবে ট্রেডিংকে একটি ব্যক্তিগত উন্নতির যাত্রা হিসেবে নিতে পারেন।
যখন কোনো নতুন ট্রেডার বাজারে আসে, তখন তার মনোযোগ সর্বদা টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস, ভলিউম প্রাইস অ্যাকশন মুভিং অ্যাভারেজ রসি আরও কতকিছু স্ট্র্যাটেজি, ঝুঁকি-পুরস্কার বা অর্থ ব্যবস্থাপনার উপর থাকে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বোঝার বিষয়ে, অর্থাৎ নিজের মানসিক প্রস্তুতি, তার দিকে হয়তো মনোযোগ অনেক দেরিতে আসে, অথবা আসে না। আর এই কারণেই, ভালো ট্রেডিং সেটআপ থাকা সত্ত্বেও মানুষ ক্রমাগত হারতে থাকে।

এটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ, একটি জার্নাল তৈরি করুন, প্রতিদিন তাতে লিখুন: আজ ট্রেডিং করার সময় আমি কেমন অনুভব করেছি? আমার আরও কী ঠিক করা উচিত ছিলো কী ভুল করেছিলে আর কী সংশোধন করা উচিত, কখন আমি বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম এবং কেন? কোন ট্রেডটি শুধুমাত্র আবেগের বশে নেওয়া হয়েছিল? এই প্রশ্নগুলি আপনার মস্তিষ্কে চলা গল্পকে প্রকাশ করে, এবং যখন আপনি গল্পটি দেখতে শুরু করেন, তখন আপনি তাতে পরিবর্তন আনতে পারেন।আর ভুলগুলি সঠিক করতে পারবেন |

বাজারের গোলমালের মধ্যে, যখন সবাই বলছে যে এই স্টকটি আরও আগে উঠতে পারে বা রকেট হতে পারে এখন বিক্রি করার সময়, তখন একজন পেশাদার ট্রেডার হলেন সেই ব্যক্তি যিনি নিজেকে জিজ্ঞাসা করেন: আমি কি এই সিদ্ধান্তটি আমার কৌশল এবং শান্ত মন দিয়ে নিচ্ছি? এবং যদি উত্তর “না” হয়, তাহলে সে সেই ট্রেডটি ছেড়েও দিতে পারে এবং উন্ন ট্রেড নিতে পারে বা জুমপি করতে পারে। কিন্তু একজন অপরিপক্ক ট্রেডার আবেগের হাতে বাধ্য হয়ে সেই ট্রেডটি নেয় যা তার সামর্থ্যের বাইরে।

প্রি-ট্রেডিং মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস

প্রতিটি ট্রেডিং সেশনের আগে, নিজে নিজে দুই-তিন মিনিটের জন্য চুপ করে বসুন শান্ত মনে ধ্যান করুন। আপনার শ্বাসের উপর মনোযোগ দিন। আপনার ভিতরের আবেগগুলিকে চিনতে চেষ্টা করুন, কিন্তু সেগুলিকে বদলানোর চেষ্টা করবেন না। শুধু দেখুন, জানুন এবং গ্রহণ করুন। এই ছোট্ট অনুশীলনটি আপনার মস্তিষ্কের ভিতরে শান্তি আনে এবং আপনাকে এমন একটি অবস্থায় নিয়ে আসে যেখানে আপনি সিদ্ধান্তগুলিকে আরও ভেবে-চিন্তে নিতে পারেন। আপনার ট্রেডিং পারফরমেন্স খুব জলদি বাড়ে আর মনোজকে এক জায়গায় কেন্দ্রিত হয়ে|

একটি ট্রেডিং জার্নাল তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ ট্রেডিং জার্নাল আপনাকে দিক দেখায়ে জেএ কী ভাবে আপনি ট্রেড করবেন আপনার ভুল গুলি সামনে নিয়ে আসে। ট্রেডিং জার্নাল লিখুন: আপনি কী ভাবলেন, কী অনুভব করলেন, কী সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তার কী ফলাফল হল ,সব কিছু এক জায়গায় নোট করুন ইডেন্টিফাই করুন সমস্যা কোন জায়গায় হচ্ছে। এই জার্নালটি আপনার উন্নতির আয়না হয়ে ওঠে। যেমন যেমন আপনি এটি পূরণ করতে থাকেন, তেমন তেমন আপনি আপনার ট্রেডিং আচরণের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্যাটার্নগুলি চিনতে শুরু করেন এবং এই বোঝাপড়াই আপনার পরবর্তী বড় সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে।

লেখক ডঃ ব্রেট স্টেইনবারজার আরও বলেন যে পারফরম্যান্স উন্নত করার অর্থ হল প্রতিদিন একটু ভালো হওয়া নিজেকে আপডেটেড করা। এর কোনো শর্টকাট নেই। কিন্তু যখন আপনি ধীরে ধীরে ধৈর্য সহকারে আপনার মন এবং আচরণের উপর কাজ করেন, তখন ফলাফল আপনার অনুকূলে আসতে শুরু করে এবং ট্রেড গুলি আপনার দিকে আসতে শুরু করে।

লেখক বলেন যে পারফরম্যান্স তখনই বাড়ে যখন আমরা টাস্ক-অরিয়েন্টেড হই, রিজাল্ট-অরিয়েন্টেড নয়। এর অর্থ হল, আপনার লক্ষ্য বা লাভের উপর মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে আপনাকে সেই প্রক্রিয়ার উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত যা থেকে লাভ আসে। যেমন আপনি একটি সেটআপ দেখলেন, পরিকল্পনা করলেন এবং নিয়ম অনুযায়ী সেটিকে ট্রিগার করলেন।আমরা বেশির ভাগ সময় লাভের দিকে মনোযোগ দিয়ে ভাবি, ‘কত লাভ হলো, কত উপার্জন করেছি!’ শুধু লাভ আর লাভই ভাবি, কোনো সময় ভাবি না যে ক্ষতিও (লস) ট্রেডিংয়ের অংশ। ব্যাস! ফলাফল যাই হোক, আপনি আপনার কাজ ভালোভাবে করেছেন। এটাই আসল জয়।

এই মানসিকতাকে উন্নত করার জন্য লেখক কিছু অনুশীলন এবং মাইন্ডফুলনেস কৌশলর পরামর্শ দেন। প্রথম ধাপ হল আপনার মনকে শান্ত করা। আপনি চিন্তা করবেন কিন্তু ট্রেডিং রাগ করে করবেন্না মাইন্ডসেট সঠিক রাখবেন এর অর্থ এই নয় যে আপনি চিন্তা করা বন্ধ করে দেবেন, বরং এর অর্থ হল যে আপনি আপনার চিন্তাকে দেখতে পারবেন, ধরতে পারবেন এবং প্রয়োজন না হলে ছেড়ে দিতে পারবেন। একটি সহজ উপায় হল ট্রেডিংয়ের আগে কয়েক মিনিট ধ্যান করা,মেডিটেশন আপনার মনকে স্থির করে রাখবে আর স্থির মনেযেকোনো কাজ সফহোল হয়ে, শ্বাসের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করা, নিজের শরীর অনুভব করা এবং এটি জানা যে আপনি এখন কোন মেজাজে আছেন। এই ছোট অনুশীলনটি থেকে আপনি আপনার আবেগগুলিকে বুঝতে শুরু করবেন এবং যখন আপনি আবেগগুলিকে বুঝবেন, তখন আপনি তাদের দাস থাকবেন না।

ডঃ ব্রেট স্টেইনবারজার ব্যাখ্যা করেন যে আমাদের মস্তিষ্ক দুটি ভাগে বিভক্ত, একটি যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেয় এবং অন্যটি যা ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়া অংশটি যেমন মার্কেট পড়লেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, কিন্তু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া অংশটি একটু থেমে দেখে। এটি সেই অংশ যা আপনাকে বাঁচাতে পারে। তাই প্রথম পদক্ষেপ হল, প্রতিটি ট্রেডিং সিদ্ধান্তের আগে নিজেকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য থামানো। ট্রেডিং হলো একটি মাইন্ডসেট গেম এখানে হার জিত লেগেই থাকবে, শুধু থেমে যান। সেই ট্রিগারটি চিনুন যা আপনাকে তাড়াহুড়ো করিয়ে দেয়। তাড়াহুড়ো ব্যাস্ততা ট্রেডিং ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে ব্যাঘাত ঘটায় এই ট্রিগার যে কোনো কিছু হতে পারে: পুরোনো লোকসান, হঠাৎ করে আসা কোনো খবর বা মুনাফা করার অস্থিরতা।

যেদিন আপনি জানতে পারবেন যে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি আপনার নিজের চিন্তা করার, অনুভব করার এবং প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতা, সেদিনই আপনি একজন পেশাদার ট্রেডার হওয়ার পথে চলতে শুরু করেন। বেশিরভাগ মানুষ মার্কেটকে বদলানোর চেষ্টা করে, মার্কেটকে জেতার চেষ্টা করে মার্কেট সাথে সাথে কেনা কিন্তু লেখকের পরিষ্কার কথা, মার্কেটকে নয়, নিজেকে বদলান। লেখক আমাদের জানায় যে কীভাবে আমরা আমাদের পারফরম্যান্সকে ক্রমাগত উন্নত করতে পারি এবং এর জন্য আমাদের কোন বিষয়গুলির উপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত।

 

 

 

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top