ডামিদের জন্য সুইং ট্রেডিং (Swing Trading For Dummies)
অনেকেই স্টক মার্কেটকে (শেয়ার মার্কেটকে) জুয়া বা লম্বা সময়ের বিনিয়োগের খেলা বলে মনে করেন, কিন্তু সুইং ট্রেডিং দুটো থেকেই আলাদা। এটি এমন একটি পদ্ধতি যেখানে আপনি ট্রেন্ড (trend) এবং মোমেন্টামকে (momentum) ধরে কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যে আপনার টাকা দ্রুত বাড়াতে পারেন এবং টাকা কম্পাউন্ড খুব শীগ্রই করতে পারেন। এটি কোনো ম্যারাথন বা ১০০ মিটার দৌড় নয়,কোনো কম্পেটেশন নয় কারো সাথে এটি আপনার সাথে একটি চ্যালেঞ্জ বরং এটি একটি মানসিক খেলা যেখানে আপনাকে নিজেথেকেই জিততে হবে, যেখানে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এর শুরু হয় সেখান থেকেই, যেখান থেকে প্রত্যেক ভালো ট্রেডার শুরু করেন, নিজের জীবনের প্রথম রাস্তা।

এবার আসুন বুঝি, বাজারে টাকা কিভাবে তৈরি হয় আর টাকা বানানোর পদ্দতি কী। লেখক বলেন, টাকা তখনই তৈরি হয় যখন আপনি ভিড় থেকে আলাদাভাবে ভাবেন সবই যেমন ভাবে ভাবে তার থেকে আলাদা ভাবে চিন্তা করুন নিজেকে আপগ্রেড করুন বুঝুন তাহলেই আপনি টাকা খুব সহজে তৈরি করতে পারবেন। যখন বাকিরা ভয় পাচ্ছে, তখন আপনি সম্ভাবনা দেখুন। যখন বাকিরা লোভের কারণে ট্রেড করছে, তখন আপনি যুক্তি দিয়ে ভাবুন। এটাই হলো মানসিক শৃঙ্খলা এবং এটাই একজন সুইং ট্রেডারের শক্তি যে মাইন্ডসেট একজন সাধারণ মানুষকে প্রফেশনাল ট্রেডার তৈরি করে। এর মানে এই নয় যে আপনাকে সবসময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হবে। সুইং ট্রেডিংয়ের সৌন্দর্য হলো আপনি প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বিশ্লেষণ করে, সপ্তাহে মাত্র কয়েকটি ট্রেড করে ভালো রিটার্ন পেতে পারেন। আপনাকে শুধু একটি সিস্টেম সেট করতে হবে, যেমন একটি ওয়াচলিস্ট তৈরি করা, এন্ট্রি এবং এক্সিট লেভেল নির্ধারণ করা এবং তারপর যখন সিগন্যাল পাওয়া যায়, তখন কোনো দ্বিধা ছাড়াই খুব সহজে অ্যাকশন নিতে পারবেন।
প্রথমত, প্রতিটি সিস্টেমের প্রাণ হলো তার এজ (Edge), সেন্ট্রাল পয়েন্ট হলো প্রোবাবিলিটি মাইন্ডসেট বিল্ড করা অর্থাৎ সেই সুবিধা যা আপনাকে বাজারের চেয়ে একটু এগিয়ে রাখে। বাজারে লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেড করছে, কিন্তু যদি আপনার কাছে এমন কোনো পদ্ধতি থাকে, যা দিয়ে আপনি বারবার ভালো সুযোগ ধরতে পারেন, তাহলে সেটিই আপনার এজ। বাজারে প্রত্যেক মানুষকে একটি এজ ফাইন্ড করতে হয়ে. আপনি যে স্ট্রাটেজি ফাইন্ডয়াট করেননাকি তার মধ্যে এজ থাকে এই এজ আপনার টেকনিক্যাল সেটআপ থেকে আসতে পারে, আপনার ইন্ডিকেটর কম্বিনেশন থেকে, আপনার টাইম ফ্রেম থেকে, অথবা আপনার শৃঙ্খলা থেকে। কিন্তু এজ থাকা জরুরি, নইলে আপনি শুধু একটি মুদ্রা টস করছেন।আপনি যদি নম্বর অফ ট্রেড বা সেরেএসে অফ ট্রেড নেন তাহলে এজ খুঁজে পাবেন |
এবার আসুন আমরা কিছু ইম্পরট্যান্ট বিষয়ে কথা বলবো যে বিষয়ে জানা আপ্নারখুব প্রয়োজন, “Don’t trade everything, trade the best“। প্রতিদিন প্রচুর স্টক মুভ করে, প্রত্যেকটি স্টক তার মোমেন্ট, চলাফেরা সবকিছুই ভিন্ন থাকে কিন্তু তার মধ্যে মাত্র কয়েকটিই থাকে, যা পরিষ্কার সেটআপের সাথে, শক্তিশালী ট্রেন্ডে এবং ভালো লিকুইডিটির সাথে সুইং ট্রেডিংয়ের জন্য উপযুক্ত। আপনাকে সেইসব ট্রেড এবং সেটআপ গুলি খুঁজে বের করতে হবে আর সেই সেটআপ পর ট্রেড নিতে হবে যদি আপনি শুধু তাদের উপর মনোযোগ দেন, তাহলে আপনার কাজ সহজও হবে এবং সফলও হবে। তাই পরের বার যখন আপনি ট্রেডিংয়ের জন্য বসবেন, তখন সবার আগে আপনার স্টক সিলেকশন প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করুন। আপনি যে মেথডে বানিয়েছেন সে গুলি আবেদন করুন করবেন আর নিজের প্ল্যান ফলো করবেন আপনার ওয়াচলিস্ট তৈরি করুন, স্ক্যানার দিয়ে ছেঁকে নিন, চার্টগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখুন, এবং তারপর শুধু তাদের মধ্য থেকে বেছে নিন, যা সত্যিই একটি ট্রেন্ডিং, শক্তিশালী এবং পরিষ্কার ট্রেড সেটআপ দেখাচ্ছে। মনে রাখবেন, টাকা সেই ট্রেডে নেই যা আপনি নিয়েছেন, বরং সেই ট্রেডে আছে যা আপনি ভেবেচিন্তে বেছে নিয়েছেন।
আরেকটি ইম্পরট্যান্ট বিষয়ে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করতে চাই, “Never turn a trade into an investment“। লেখক খুব ভালোভাবে বলতে ইচ্ছুক যে যদি কোনো ট্রেড আপনার বিরুদ্ধে যাচ্ছে, তাহলে সেটিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেবেন না। সেই ট্রেড থেকে খুব শীগ্রই বাইরে বের হয়ে আসার প্ল্যানিং করুন কারণ লসিং ট্রেড ধরে রাখার করে মানে নাই | সুইং ট্রেডিং একটি স্বল্পমেয়াদি কৌশল। এতে শৃঙ্খলাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, এন্ট্রি তো আপনাকে সুযোগ দেয়, কিন্তু এক্সিটই বলে যে আপনি সেই সুযোগের কতটা সঠিক ব্যবহার করেছেন এবং দুটোর মধ্যে সংযোগ হলো শৃঙ্খলা। শৃঙ্খলা আপনাকে একজন শক্তিশালী ট্রেডের বানায়ে আপনি শৃঙ্খলা ছাড়া কোনো কাজে সফহোল হতে পারবেননা এটাই নিয়ম এটাই অনুশাসন, যখন আপনি প্রতিটি ট্রেডকে একটি ব্যবসায়িক লেনদেনের মতো দেখবেন, যেখানে লাভ এবং ক্ষতি দুটোই সম্ভাবনা, কিন্তু প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নেওয়া হয়েছে, তখন আপনি ট্রেডিংয়ে এগিয়ে যাওয়া শুরু করেন।
আরেকটি বড় মানসিক চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষতিকে স্বীকার করা,এবং ক্ষতির সাথে আবেগ না আনা। ট্রেডিংয়ের সবচেয়ে তেতো সত্যি এটাই যে ক্ষতি হবেই। কিন্তু বেশিরভাগ নতুন ট্রেডার ক্ষতিকে হার মনে করে। তারা এটিকে ব্যক্তিগতভাবে নেয়,লাভ আর ক্ষতি সব সময়ে সমান সমান থাকে এর থেকে ভয় পাবার কোন প্রয়োজন নাই, যখন কিনা লেখক বারবার বলেন যে ক্ষতি ট্রেডের একটি অংশ, এর কারণ আপনি নন, মার্কেট। আপনি শুধু এটিকে ম্যানেজ করতে পারেন। যখন আপনি এই বিষয়টি বুঝে যান, তখন প্রতিটি ক্ষতি একটি শিক্ষায় পরিণত হয়, লজ্জার কারণ নয়।
এটি হলো আবেগ ও বুদ্ধিমত্তার ব্যবসা, ধৈর্য ও কৌশলের ব্যবসা, এবং সবচেয়ে বেশি আত্ম-নিয়ন্ত্রণের ব্যবসা। আপনি এখানে রাগ করে টেনশন নিয়ে কাজ করলে হবেনা মাথা শান্ত করে সঠিক প্ল্যানিং করে কাজ করতে হবে, এবার ভাবুন, আপনি কি সেই খেলায় নামার জন্য প্রস্তুত? যেখানে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আপনার ধৈর্য ও সিদ্ধান্তের পরীক্ষা হয়, যেখানে লোভ এবং ভয় আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু, এবং জ্ঞান, শৃঙ্খলা এবং পরিকল্পনা আপনার সবচেয়ে বড় সঙ্গী। আপনি কি কখনো এমন স্বপ্ন দেখেছেন, যেখানে আপনি আপনার আর্থিক ভবিষ্যৎকে নিজের হাতে আকার দিতে পারেন, কোনো বস বা বন্ধন ছাড়া? সুইং ট্রেডিং এই স্বপ্নকে সত্যি করতে পারে, কিন্তু কেবল তখনই, যখন আপনি এটিকে একটি খেলা নয়, বরং একটি দায়িত্ব হিসাবে বিবেচনা করবেন।আর ট্রেডিং একটি জুয়া না মনে করে মাইন্ডসেট খেলা মনে করবেন |
